প্রেগনেনসির- ২য় ত্রৈমাসিককালীন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরামর্শ




প্রেগনেনসি বা গর্ভ ধারণ একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। গর্ভ ধারণ কালীন পুরো সময়টিকে আমরা ৩টি ভাগে বিভক্ত করে থাকি।২য় ত্রৈমাসিক কালীন সময়ে একজন মায়ের বাড়তি সচেতনতা ও সতর্কতা জরুরি। চলুন বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক- 


প্রেগনেন্সির ২য় ত্রৈমাসিক কালীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ শরীরবৃত্তীয় পরিবর্তনঃ


১। পেটের নিচের অংশ বড় ও ভারী অনুভব করা
২। মাথা ঝিম ঝিম করা
৩। ১ম ত্রৈমাসিক কালীন বমি বমি ভাব ও মাথা ঘুরানো কমে আসা
৪। মাথায় এক ধরণের হালকা অনুভূতি হওয়া ( রক্ত চাপ কমার কারনে)
৫। ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
৬। ওজন বেড়ে যাওয়া
৭। পেট, স্তন, উরু বা নিতম্ভের উপরের দিকে প্রসারণ চিহ্ন দেখা দেয়
৮। হাত-পা ফুলে যাওয়া
৯।  ত্বকের পরিবর্তন –স্তনের চারপাশের ত্বকের রং গাড় হয়ে যেতে পারে
১০। বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করতে আরাম্ভ করা


লক্ষণীয় বিষয়ঃ

আপনি অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন যদি নিম্নের লক্ষণগুলো দেখা যায়
মাথা ঘুরানো ও সাথে বমি ভাব, চোখ ও ত্বকে হলুদ ভাব, দ্রুত শরীরের ওজন অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া এবং হঠাৎ মাসিকের রাস্তা দিয়ে রক্তপাত ও চাকা যাওয়া শুরু করলে। 

প্রেগনেন্সির ২য় ত্রৈমাসিক কালীন বাচ্চার শারীরিক বিবর্ধনঃ

২য় ত্রৈমাসিক কালীন বাচ্চার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি চলতে থাকে, বাচ্চা শুনতে ও গিলতে আরাম্ভ করে। সামান্য চুল দেখা যায়। ২য় ত্রৈমাসিকের প্রায় শেষের দিকে বাচ্চা নড়াচড়া করতে আরাম্ভ করে, এসময় মায়েরা বাচ্চার ঘুমিয়ে থাকা ও জেগে ওঠার চক্র অনুভব করতে পারে।
আমেরিকান প্রেগনেন্সি অ্যাসোসিয়েশন এর মতে, ২য় ত্রৈমাসিকের শেষের দিকে বাচ্চার উচ্চতা প্রায় ১৪ ইঞ্চি এবং ওজন ২ পাউন্ড এর থেকে কিছু বেশী হয়।

ডাক্তারের কাছে গিয়ে করণীয়ঃ

এ সময় ২ সপ্তাহ অন্তর নিম্নলিখিত চেকআপ করা উচিত

  • রক্ত চাপ ও ওজন পরিমাপ
  • রক্তে সুগারের পরিমাণ চেক করা
  • আলট্রাসনগ্রাফি
  • জন্মগত ত্রুটি ও জেনেটিক স্ক্রিনিং
  • আম্নিওসেন্টেসিস
  • ***এ সময় বাচ্চার লিঙ্গ নির্ধারণ আলট্রাসনগ্রাফির মাধ্যমে করা যায়।

২য় ত্রৈমাসিক কালীন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরামর্শঃ 

করণীয়
বর্জনীয়
ভিটামিন, মিনারেল ও পুস্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অব্যাহত রাখুন
অ্যালকোহল, ক্যাফেইন, ধূমপান এবং অনির্দেশিত ওষুধ
প্রেগনেন্সির ব্যায়াম অব্যাহত রাখুন
বাসি-পচা, সামুদ্রিক মাছ, অপাস্তুরিত দুধ
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ফাস্ট ফুড,কার্বনেটেড বেভারেজ
দাঁত ও মুখ পরিষ্কার রাখুন ( অপরিস্কার দাঁত ও মুখ প্রি ম্যাচিউর লেবার এর জন্য দায়ী)
আইসোট্রেটিনইন,থালিডোমাইড,এসিট্রেটিন এসিইইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ
কালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার  
অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম

 ২য় ত্রৈমাসিক কালীন গুরুত্বপূর্ণ ব্যায়ামঃ



Post a Comment

2 Comments