• নতুন পোস্ট

    চুল কেন পড়ে?

    চুল কেন পড়ে?
    চুল পড়া সমস্যা ও এর প্রতিকার
    চুল পড়া সমস্যা ও এর প্রতিকার

    চুল পড়া খুব সাধারণ সমস্যা গুলোর মধ্যে একটা অন্যতম সমস্যা। প্রতিদিন ১০০টা পর্যন্ত চুল পড়া স্বাভাবিক, এর বেশি পড়লে সেটি চিন্তার কারণ। চুল একবার পড়া শুরু হলে তা বাড়তে থাকে। অনেকের এই চুল পড়ার পরিমাণ এত বেশি থাকে যে মাথার একপাশ খালি হয়ে টাক পড়ে যায়



    ছেলে মেয়ে উভয় এই সমস্যার মধ্যে কম বেশি পড়ে থাকেন। বিভিন্ন কারণে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে এর মধ্যে বংশগত,হরমোনের পরিবর্তন,বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা, আয়রনের অভাব,অসুখের কারণে,আমিষের অভাবে এবং গর্ভবস্থায় চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়।অনেক সময় অতিরিক্ত চুল পড়ার দুশ্চিন্তায় ও চুল পড়ে যেতে পারে।


    দুশ্চিন্তায় ও চুল পড়ে যেতে পারে


    চুল পড়া সহজেই কমানো যায় যদি না হরমোন জনিত কারণে চুল পড়ে। সেক্ষেত্রে হরমোন অ্যান্টাগনিস্ট সেবনে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে অবিবাহিত ও ফ্যামিলি ইনকমপ্লিট দের জন্য এই চিকিৎসা প্রযোজ্য নয়।




    চুল বৃদ্ধির ধাপ সমূহঃ

    ১। অ্যানাজেনঃ

    এই ফেজে চুল ফলিকল থেকে বের হয় ও দ্রুত বাড়তে থাকে। এই ফেক ২ থেকে ৬ বছর স্থায়ী হয়।

    ২। ক্যাটাজেনঃ

    এটি ক্রমাগত বৃদ্ধি ও রেস্টিং ফেজে যাবার মধ্যবর্তী পর্যায়।

    ৩। টেলোজেনঃ

    এটি সর্ব শেষ ধাপ যেখানে চুল এর ক্রমাগত বৃদ্ধি সম্পন্ন হয়। এই ধাপের একেবারে শেষ পর্যায়ে চুলটি পড়ে যাবার প্রবণতা লাভ করে। এই ধাপ ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ স্থায়ী হয়।

    চুল তখনই পড়ে যখন চুল এই তিনটি ধাপ পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারেনা। টাক পড়ে যায় যখন চুল এর ফলিকল নতুন চুল তৈরি করা বন্ধ করে দেয়।





    সাধারণত দুই ধরণের টাক পড়া দেখা যায়

    ১। টেলোজেন এফ্লুভিয়ামঃ

    যখন শতকরা ২০ ভাগ চুল এর ফলিকল হঠাৎ টেলোজেন ফেজ এ চলে যায় ফলে ম্যাচিউর চুল এর ফলিকল কমে যায়। চুল এর পরিমাণ কমে যাওয়ায় টাক পড়ে। এ ধরণের সমস্যায় সাধারণত পুরো মাথায় চুলের পরিমাণ কমে যায়।


    ২। অ্যান্ড্রজেনিক অ্যালোপেসিয়াঃ

    এটি হরমোনাল সমস্যা। যখন ছেলে দের টেস্টোস্টেরন হরমোন ডাইহাইড্র টেস্টোস্টেরেন কনভার্ট হয় এবং চুলের ফলিকল কে আক্রমণ করে তখনই এ ধরণের চুল পড়া দেখা দেয়। সাধারণত মাথার উপরের অংশ থেকে চুল কমে যেতে শুরু করে। সামনের ও সাইডের চুল অপরিবর্তিত থাকে।



    চুল পড়া সম্বন্ধীয় কিছু ভুল ধারনাঃ

    ·        অনেকেই ভাবেন শুধুমাত্র পুরুষেরাই চুল পড়া সমস্যার সম্মুখীন বেশী হন, আসলে নারী পুরুষ সবারই এ সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে পুরুষের টেস্টওস্টেরন নামক হরমোন থাকায় এ সমস্যা কিছুটা বেশী দেখা দেয়।


    ·        অনেকেই চুল বেশী পরতে থাকলে মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন তাদের ধারণা এতে পরবর্তীতে চুল বেশী গজায়। একদম ভুল ধারণা।




    চুল পড়া প্রতিরোধ এ করনীয়ঃ

    ১। খুশকি দূর করুনঃ

    আপনার যদি খুশকির প্রবণতা থাকে তবে ধরে নিন চুল পড়া আপনার জন্য অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। খুশকি চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয় এবং চুল পড়া বৃদ্ধি করে।

    সামান্য টক দই ও লেবু মিশিয়ে গোসলের পূর্বে চুলে মেখে ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন- এই পদ্ধতি আপনার খুশকি নিরাময়ে সাহায্য করবে।
    ২। ভেজা চুল আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকুন
    অনেকেই ভেজা চুল আঁচড়িয়ে থাকেন। চুল ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া অনেক নরম থাকে। এর ফলে খুব সহজেই চুল পড়ে যায়।

    ৩। চুলে ময়েশ্চা ধরে রাখুন
    শুষ্ক রুক্ষ চুল আঁচড়ানো বেশ কঠিন। যার কারণে চুল আঁচড়ানোর সময় অনেক চুল উঠে আসে। চুলকে ময়েশ্চারাইজড রাখুন। সপ্তাহে তিনবার চুলে তেল ব্যবহার করুন। সবচেয়ে ভাল কুসুম গরম তেল ম্যাসাজ করা।

    ৪। চুল পরিষ্কার রাখা
    নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা। অনেকে প্রতিদিন চুল শ্যাম্পু করেন। প্রতিদিন চুল শ্যাম্পু না করে সপ্তাহে দুই দিন চুল শ্যাম্পু করুন।

    ৫। আগা ফাটা দূর করা
    চুল নষ্ট হওয়ার আরেকটি কারণ হল আগা ফাটা। এই সমস্যাটা বড় চুলে বেশি হয়। অতিরিক্ত রুক্ষতা আগা ফাটার জন্য দায়ী। নিয়মিত তেলের ব্যবহার কিছুটা হলেও এই সমস্যার সমাধান করবে।

    ৬। পেঁয়াজ ব্যাবহার করুন
    পেঁয়াজ চুল এর গোঁড়া শক্ত করে, নিয়মিত এর ব্যাবহারে চুল হবে মজবুত ও সিল্কি


    ৭। নিয়মিত গোসলঃ

    নিয়মিত গোসল চুল পড়া রোধ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ। নিয়মিত গোসল চুল বৃদ্ধি দ্রুত করার পাশাপাশি মাথার চামড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।


    সঠিক কারণ নির্ণয় চুল পড়া রোধের স্থায়ী চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ। শুধুমাত্র প্রসাধনী ব্যাবহারই যথেষ্ট নয়।








    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad