হাইপার-ইউরিসেমিয়া বা গাউট, উপসর্গ,খাদ্য তালিকা ও চিকিৎসা

হাইপার-ইউরিসেমিয়া বা গাউট, উপসর্গ,খাদ্য তালিকা ও চিকিৎসা

হাইপার-ইউরিসেমিয়া বা গাউট, উপসর্গ,খাদ্য তালিকা ও চিকিৎসা,gout in bengali
হাইপার-ইউরিসেমিয়া বা গাউট, উপসর্গ,খাদ্য তালিকা ও চিকিৎসা

গাউট এক বিশেষ ধরণের ইনফ্লামেটরি আর্থ্রাইটিস,যার ফলে অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা, ফুলে যাওয়াও স্টিফনেস দেখা দেয়। সাধারণত পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির অস্থিসন্ধি বেশী আক্রান্ত হয়।সাধারণত হঠাৎ করেই শরীরের অস্থিসন্ধি ফুলে যায়, তীব্র ব্যাথা করে ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়।


গাউট কেন হয়
গাউট কেন হয়

কেন গাউট হয়?

পিউরিন এর বিপাকক্রিয়ার গোলোযোগ এর কারণেই গাউট দেখা দেয়। সাধারণভাবে ইউরিক আসিড রক্তে মিশে থাকে এবং মুত্রের সাথে শরীর থেকে অপসারিত হয়।


যদি কখনও অতি মাত্রায় পিউরিন যুক্ত খাবার খাওয়া হয় এবং বিপাকের ফলে বেশি ইউরিক আসিড তৈরি হয়ে রক্তে মিশে যায় অথবা কিডনির মাধ্যমে স্বাভাবিকের থেকে কম পরিমাণে ইউরিক আসিড মুত্রে নিঃসৃত হয় তাহলেই এই ধরণের সমস্যা দেখা দেয়।



রক্তে অতিমাত্রায় ইউরিক আসিড থাকায় তীক্ষ্ণ, সূচের মত ইউরেট ক্রিস্টাল তৈরি হয় এবং অস্থিসন্ধি ও এর চারপাশের টিস্যুতে জমা হয়, ফুলে যায়,তীব্র ব্যাথা করে ও প্রদাহ সৃষ্টি হয়।



কাদের এ ধরণের সমস্যা হয়?

১। খাদ্যাভ্যাসঃ বেশী পরিমাণে রেড মিট যেমন গরু, মহিষ এর মাংস, সামুদ্রিক মাছ, সফট ড্রিঙ্কস রক্তে ইউরিক আসিড এর মাত্রা বাড়ায় এবং গাউট হবার সম্ভাবনাও বাড়ায়।অতি মাত্রায় অ্যালকোহল বিশেষত বিয়ার খেলেও এমন হয়।



২। বেশী মোটা হলেঃ শরীরে বেশী চর্বি জমে গেলে ইউরিক অ্যাসিডও বেশী বেশী তৈরি হয় ফলে কিডনির উপর চাপ পড়ে অনেক ক্ষেত্রেই এত বেশি পরিমাণে ইউরিক আসিড অপসারণ করা কিডনির পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে দেখা দেয় গাউট।



৩। অন্যান্য রোগঃ ডায়বেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হার্ট, কিডনি বা লিভারের কোন অসুখ থাকলেও পিউরিন এর স্বাভাবিক বিপাক ক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।



৪। পারিবারিক ইতিহাসঃ ফ্যামিলিগত যদি গাউট এর প্রবণতা থাকে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মেরও তা হতে পারে



৫। বয়স ও লিঙ্গঃ সাধারণত ছেলেদের এবং ৩০-৫০ বয়সী দের বেশি গাউট হতে দেখা যায়।



৬। সাম্প্রতিক কোন অ্যাক্সিডেন্ট বা আঘাত অথবা সার্জারিঃ কোন অ্যাক্সিডেন্ট বা আঘাত অথবা সার্জারি সাম্প্রতিক হয়ে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তনের কারনেও গাউট দেখা দিতে পারে।



কীভাবে গাউট হওয়া থেকে বাঁচা যায় এবং কীভাবে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়?

কথায় বলে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ই উত্তম।সঠিক ভারসাম্য পূর্ণ খাদ্যতালিকা মেনে চললে গাউট হওয়া থেকে বাঁচা যায় ও একে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

গাউট দেখা দিলে কি করব?



কম পিউরিন যুক্ত খাবার ও ইউরিকোসুরিক বা ইউরিক আসিড নিঃসরণ করে এমন ওষুধ(অ্যালোপিউরিনল, কোলচেসিন, ফেবুকযোস্টাট) সেবনের মাধ্যমে গাউট নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।



গাউট কি কখনও পুরোপুরি নিরাময় হয়?

যাদের গাউট এর প্রবণতা আছে তাদের সঠিক খাদ্য তালিকা ও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রক্তে ইউরিক আসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব মাত্র।কোন কারণে বেশী পিউরিন যুক্ত খাবার খেলে অ্যাকিউট অ্যাটাক বা প্রাথমিক উপসর্গ- তীব্র ব্যাথা,প্রদাহ ও অস্থি সন্ধি ফুলে যেতে পারে।

Post a Comment

0 Comments