• নতুন পোস্ট

    মাতৃত্বকালীন রোজা রাখা না রাখা নিয়ে চিন্তিত?


    মাতৃত্বকালীন রোজা রাখা না রাখা


    fasting in pregnency bengali, roza during pregnency bengali,roja during pregnency bengali
    মাতৃত্বকালীন রোজা রাখা না রাখা

    গর্ভাবস্থায় রোজা রাখা না রাখা নির্ভর করে শারীরিক অবস্থার উপর। তবে গর্ভবতী মায়ের যদি কোন শারীরিক দুর্বলতা না থাকে এবং তিনি রোজা রাখলে কোন শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন না হন তবে রোজা রাখতে কোন বাধা নেই। এজন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।




    আলোচনার সুবিধার্থে গর্ভকালীন সময়কে তিনভাগে বর্ণনা করা হলঃ

    ১। গর্ভকালীন প্রথম ৩ মাসঃ
    গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যেহেতু গর্ভবতী মায়েদের বেশী বমি বমি ভাব হয়, মাথা ঘুরায়, খেতে কষ্ট হয় ও ওজন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে তাই এই প্রথম তিন মাস রোজা না রাখাই ভালো এছাড়া এই সময় মায়ের গর্ভে অনাগত শিশুর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হতে থাকে তাই এসময় মায়ের শরীরে সঠিক মাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণে পুষ্টি, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পানি ইত্যাদির পর্যাপ্ত সরবরাহ জরুরি। এ সময় যেহেতু মায়ের শরীর থেকেই গর্ভের শিশু তাঁর দরকারি জিনিস পায় সেহেতু এসময় মায়ের দেহে কোনো কিছুর অভাব ঘটলে পরবর্তী জীবনে শিশুর জীবনে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।



    ২। গর্ভকালীন অন্তর্বর্তী ৩ মাসঃ
    গর্ভকালীন মধ্যবর্তী তিন মাসে গর্ভবতী মায়েরা একটু ভালো অনুভব করেন। আর এই সময়ের মধ্যেই বাচ্চাটির গঠনও তৈরি হয়ে যায়। তাই যদি অন্য কোনো সমস্যা না থাকে এ সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভবতী মা কিছু রোজা রাখতে পারেন তবে তা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে।যাঁদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের জন্য রোজা না রাখা ভালো।
    fasting during pregnency,fasting during pregnancy in Bengali, fasting during pregnancy,fasting during pregnancy third trimester in islam,fasting during pregnancy in quran,fasting during pregnancy in islam,fasting during pregnancy second trimester,fasting during pregnancy first trimester,fasting during pregnancy third trimester,fasting during pregnancy in Ramadan,fasting during pregnancy islamqa,fasting during pregnancy for glucose test
    মাতৃত্বকালীন রোজা রাখা না রাখা

    ৩। গর্ভকালীন শেষ ৩ মাসঃ
    গর্ভবতী মাকে এ সময় খুবই সতর্ক হয়ে চলা উচিত কারণ এ সময় মায়ের পেটে বাচ্চা দ্রুত বাড়ে তাই গর্ভবতী মা ও তাঁর অনাগত সন্তানের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মাকে পর্যাপ্ত পুস্টি যুক্ত খাবার ও বিশ্রাম নিতে হবে।তাই এ সময় রোজা না রাখাই উত্তম।
    এছাড়া যাঁরা হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি বা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ করা অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের একটু বেশি সতর্ক থাকা উচিতরোজা না রাখাই ভালো।তবে একান্তই রাখতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।





    রোজাদার গর্ভবতী মায়েদের জন্য কিছু সতর্কতামুলক পরামর্শঃ
    • গর্ভাবস্থায় বেশী মসলাদার,ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত ও বাসি খাবার ইত্যাদি পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন।পুস্টি যুক্ত খাবার গ্রহণ করুন।
    • ইফতার ও সেহেরিতে যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করুন। কোন অবস্থাতেই সেহরি না খেয়ে রোজা রাখার চেষ্টা করবেন না তাতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে ও অনাগত সন্তানের ক্ষতি হতে পারে।
    • গর্ভাবস্থায় আনুপাতিক হারে আঁশযুক্ত, প্রোটিনযুক্ত ও ফ্যাটসম্পন্ন খাবার গ্রহণ করুন কারণ এসব উপাদান ধীরগতিতে পরিপাক হয় বিধায় ক্ষুধা কম লাগবে।
    • রোজার সময় বেশি বিশ্রাম নিন ও দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলুন।
    • এ সময় পরিমিত চিনিযুক্ত ও জাউ ভাত জাতীয় খাবার খেতে পারেন।
    • এ সময় অনেকক্ষণ রোদে বা গরমে অবস্থান না করে বাতাস আছে এমন খোলামেলা পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন।
    • রাতে খাবারের পর বিশ্রাম নিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করুন।
    • গর্ভাবস্থায় চিকিৎসক নির্দেশিত ব্যায়াম করুন এতে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং আপনি থাকবেন সুস্থ ও সবল।
    exercises during pregnency bengali,fasting during pregnancy in Bengali, fasting during pregnancy,fasting during pregnancy third trimester in islam,fasting during pregnancy in quran,fasting during pregnancy in islam,fasting during pregnancy second trimester,fasting during pregnancy first trimester,fasting during pregnancy third trimester,fasting during pregnancy in Ramadan,fasting during pregnancy islamqa,fasting during pregnancy for glucose test
    মাতৃত্বকালীন ব্যায়াম


    একজন গর্ভবতী মাকে দিনে ছয়বার বা তারও বেশি খেতে বলা হয় কারণ গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরির প্রয়োজন হয়। গরমের সময় রোজা রাখলে সাধারণত শীতকালের চেয়ে অধিক সময় (প্রায় ২ ঘণ্টা) পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। এছাড়া গরমে গর্ভবতী মা প্রচুর ঘেমে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতায় ভুগতে পারেন এবং মূত্রনালিতে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি রোজা রাখার ফলে অনাগত শিশুটি অপুষ্টি ও কম ওজন নিয়ে জন্ম নিতে পারেতাই ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে কিছু রোজা রাখা যেতে পারে,তবে পুরো ১ মাস রোজা রাখলে দীর্ঘ মেয়াদি শারীরিক সমস্যা সহ অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।



    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad